রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হাম ও ডেঙ্গু রোগের জোড়া সংকটে টালমাটাল দেশের চিকিৎসা খাত

হাম ও ডেঙ্গু রোগের জোড়া সংকটে টালমাটাল দেশের চিকিৎসা খাত

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান এক হাজার অতিক্রম করেছে। গত একদিনেই প্রাণ গেছে আরও তিনটি শিশুর।

এই নিয়ে সন্দেহজনক লক্ষণযুক্ত ৯০২ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ১০০ জনসহ মোট ১ হাজার ২ জন শিশুর জীবনাবসান হলো। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. জাহিদ রায়হান সম্প্রতি এই চিত্র তুলে ধরেন।


শিশু চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে কিংবা স্থানীয় চিকিৎসকের অধীনে সেবা নেওয়া অনেক শিশুর মৃত্যুর হিসাব এর বাইরে রয়ে গেছে। প্রকৃত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা গেলে প্রাণহানির এই তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে, যার মূল কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যথাযথভাবে হামের প্রতিষেধক না দেওয়া।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন ও ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত মিলে মোট ১ হাজার ১৮৮ জন শিশু নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪২৭ জন, চট্টগ্রামে ২২০, সিলেটে ১৮৩, বরিশালে ১৩৮, খুলনায় ৫৮, ময়মনসিংহে ৪১, রাজশাহীতে ৩৫ এবং রংপুর অঞ্চলে ১৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও পরীক্ষিত মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে প্রবেশ করেছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন শিশু, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

অন্যদিকে মশার কামড়ে সৃষ্ট ডেঙ্গু জ্বরে গত একদিনে আরও ৩ জনের জীবনাবসান হয়েছে। ফলে চলতি বছর এই রোগে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। নতুন করে ১ হাজার ৪৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জনে। সংক্রমিতদের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, যার সংখ্যা ২৩০ জন। এছাড়া তরুণ ও যুবকদের মধ্যে এর প্রভাব বেশ তীব্র।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই জোড়া রোগের প্রাদুর্ভাবকে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন। পরিস্থিতি সামলাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জ্বর আক্রান্তদের তাৎক্ষণিক ডেঙ্গু নির্ণয় ও টিকাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব হ্রাসে তিন মাসের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। শরৎ ও প্রাক-শীত মৌসুমে ডেঙ্গুর চূড়ান্ত ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য স্বতন্ত্র কর্নার এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে এবং শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর জন্য জেলার সিভিল সার্জনদের বার্তা পাঠানো হয়েছে।