স্বাস্থ্য
দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত, প্রথমবার রোবটিক প্রযুক্তিতে সফল দুই অস্ত্রোপচার
অস্ত্রোপচারকক্ষে চিকিৎসকের নিখুঁত নির্দেশনায় কাজ করছে রোবটিক বাহু। মানবহাতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শরীরের অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে রোবটিক সার্জারির অধ্যায়।
অস্ত্রোপচারকক্ষে চিকিৎসকের নিখুঁত নির্দেশনায় কাজ করছে রোবটিক বাহু। মানবহাতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শরীরের অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে রোবটিক সার্জারির অধ্যায়।
সোমবার রাজধানীর মাদানী এভিনিউতে অবস্থিত ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে পিত্তথলির জটিলতা ও জরায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত দুজন রোগীর দেহে সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই মাইলফলক স্পর্শ করে দেশটি। প্রবীণ এক পুরুষ রোগীর পিত্তথলির পাথর অপসারণ এবং এক মধ্যবয়সী নারীর জরায়ুজনিত সমস্যায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয় এই প্রক্রিয়ায়। সরকারি সবুজ সংকেত মেলার পরদিনই এই জটিল দুটি প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়ন ঘটান অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন এবং অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী)।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই রোবটিক পদ্ধতিতে সরাসরি যন্ত্র নিজেই অপারেশন করে না, বরং শল্যচিকিৎসক একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে রোবটের প্রতিটি নড়াচড়া তদারকি করেন। ত্রিমাত্রিক দৃশ্যায়ন এবং পূর্ণ মাত্রায় ঘুরতে পারা রোবটিক বাহুর সুবিধার কারণে শরীরের জটিল স্থানে টিস্যুর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে সামান্য কাটার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এতে রোগীর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সুস্থতার হারও ত্বরান্বিত হয়। আগামী দিনে হৃদরোগ, স্নায়ু, মূত্রনালি এবং বক্ষব্যাধির মতো জটিল চিকিৎসা বিভাগগুলোতে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রবণতা কমানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।
যদিও ইতিপূর্বে রাষ্ট্রীয় হৃদরোগ প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহারের নজির ছিল, তবে নিয়মিত সেবা হিসেবে রোবটিক সার্জারির এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য অনেক বড় অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রপাতি, টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার কারণে এই চিকিৎসা কতটা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ভেতরে আনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। সর্বস্তরের জনগণের জন্য এই সুবিধার সমবণ্টন নিশ্চিত না করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার এই সুফল কেবল সামর্থ্যবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।