প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ভারতের উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি দল ঢাকায় সফরকালে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠলে ভারতের পক্ষ থেকে আইনি শর্তের বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নিয়ম অনুসারে, আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তি বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। ফলে আইনি রায় কার্যকর হওয়ার পূর্বে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শেখ হাসিনা আসন্ন ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা ভারত সরকারের জানা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা ঢাকা প্রশাসনকে সতর্ক বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর তাঁর প্রতি যেন কোনো ধরনের অমার্জিত আচরণ না করা হয়। তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হলেও তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটবে, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট বলে মনে করছে তারা।
অন্যদিকে উক্ত সফরত প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বেনজীর ভুট্টোর মর্মান্তিক পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁরা শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রাণনাশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমান সাবেক এই সরকারপ্রধান, যাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশের আদালতে বহুসংখ্যক হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার