সিরিয়ার খবর সংস্থা সানার বরাত দিয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সিরীয় সামরিক ও সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।
প্রতিনিধি পর্যায়ের এই সংলাপে দুই দেশের সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে একটি সামরিক সমঝোতা বা নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরিচালনা করা হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক এই সংলাপ ভবিষ্যতে উভয় রাষ্ট্রের মাঝে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত বোঝাপড়ার পথ প্রস্তুত করতে পারে।
সিরীয় ওই সূত্রটি প্রকাশ করেছে, আলোচনায় মূলত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান, আকস্মিক আক্রমণ এবং গ্রেপ্তারি তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর কৌশল নির্ধারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি তুর্কি ও ইসরায়েলি বিদ্যমান বৈরিতা প্রশমন এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষার নানা দিক নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধিরা।
সম্প্রতি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যেই এই বৈঠকের সূত্রপাত বলে সানার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিপাক্ষিক টেবিল বৈঠকে সিরীয় প্রতিনিধি পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ওপর জোরালো দাবি উপস্থাপন করা হয়। সে সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা অবস্থানগুলো ছেড়ে পূর্বের সীমানায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহ্যবাহী বিচ্ছিন্নতা চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার দাবি তোলা হয়, যার আওতায় গোলান মালভূমি অঞ্চলে একটি সামরিকমুক্ত নিরপেক্ষ এলাকা বজায় রাখার বিধান রয়েছে।
তবে আলোচনা প্রক্রিয়ার মাঝেই দামেস্কের কর্মকর্তারা পুনরায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েলি অধিকারে থাকা বিতর্কিত গোলান মালভূমি ভূখণ্ডগতভাবে সর্বদাই সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের চূড়ান্ত রাজনৈতিক মর্যাদা কিংবা ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে এখনই কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় আসেনি বলেও ইঙ্গিত দেয় প্রতিনিধি দলটি।