বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

বিকল হয়ে যাওয়া ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট চীনা ঠিকাদারি সংস্থা হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একদল বিদেশি প্রকৌশলী ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টার ব্যবধানে চালু থাকা দুটি ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ায় কেন্দ্রটিতে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এর ফলে মোট ৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ভোরের দিকে কেন্দ্রটির তিন নম্বর ইউনিটে আকস্মিক কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ থমকে যায়। এর ঠিক আগের দিন, সোমবার ভোরবেলায় এক নম্বর ইউনিটেও একই ধরনের বিপর্যয় ঘটে। অন্যদিকে কেন্দ্রটির দুই নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২০২০ সালের শেষভাগ থেকেই পুরোপুরি অচল রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার সকালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটে গোলযোগ দেখা দিলে সেটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ইউনিটটি সচল করার আগেই মঙ্গলবার ভোরে সাব-স্টেশনের একটি সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২৭৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিন নম্বর ইউনিটটিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এর ফলেই কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, বিকল হয়ে যাওয়া ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট চীনা ঠিকাদারি সংস্থা হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একদল বিদেশি প্রকৌশলী ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচল থাকা অবস্থায় ২৭৫ মেগাওয়াটের তিন নম্বর ইউনিটটি থেকে দৈনিক গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতো। এছাড়া ১২৫ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দুই নম্বর ইউনিট বন্ধ থাকায় এই দুটি ইউনিটের ওপরই কেন্দ্রটির সার্বিক সরবরাহ নির্ভর করছিল।