শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্যবইয়ে লেখাটি স্থান পাচ্ছে। জাতীয় ইতিহাসে প্রত্যেকের প্রকৃত অবদানকে কোনো পক্ষপাত ছাড়াই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’
জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যতালিকায় স্থান পেতে যাচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বরচিত ঐতিহাসিক বিবরণী ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’। একই সঙ্গে তৎকালীন রণাঙ্গনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ডায়েরির দুর্লভ আলোকচিত্রও সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ সংকলনে একটি স্বতন্ত্র পাঠ হিসেবে এই রচনাটি যুক্ত করা হচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পরিচিত এই স্মৃতিকথাকে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সায় দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।

এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তা প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্যবইয়ে লেখাটি স্থান পাচ্ছে। জাতীয় ইতিহাসে প্রত্যেকের প্রকৃত অবদানকে কোনো পক্ষপাত ছাড়াই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এনসিসিসির এক নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

পাঠ্যক্রম প্রণয়নের সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের বাইশতম গদ্যের রচয়িতা পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, এক নম্বর সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমগ্র জনতার লড়াই হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পঁচিশে মার্চের বর্বরোচিত নিধনের পর শেখ মুজিবুর রহমান কারাবন্দী হলে মেজর জিয়ার উচ্চারিত স্বাধীনতার বার্তা সমগ্র সংগ্রামী জনতার মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল।

প্রবন্ধটির প্রারম্ভিক ভূমিকায় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, বাহাত্তর সালে তৎকালীন দৈনিক বাংলায় মুদ্রিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং আশির দশকে দৈনিক দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ রচনা দুটি মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য দলিল। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে, স্বাধীনতা অর্জন একক কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়। ফলে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ক্রমবিকাশে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মতো নেতৃত্বকে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে।

পাঠ্যক্রম প্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, মূল প্রবন্ধটিতে একাত্তরের মার্চে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সংঘটিত সশস্ত্র প্রতিরোধ, কালুরঘাট সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পটভূমি এবং সম্মুখ সমরের তীব্র আত্মত্যাগের বাস্তব আলেখ্য ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, নীতি-নির্ধারণী সভায় সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই রচনাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের নির্ভেজাল ও পক্ষপাতহীন সত্য জানার সুযোগ করে দেবে।