আন্তর্জাতিক এক ব্যবসায়িক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীন থেকে ইরানের কাছে জ্বালানি বাবদ অর্থ আসলেও সাগরে জমে থাকা এই তেলের ভাঁড়ার একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে। এতে করে তেহরানের ওপর আর্থিক অবরোধের মাত্রা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতার পথ ধরে ইরানকে পুনরায় আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা। বেইজিং পাশে না থাকলেও তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের রয়েছে বলে বেসেন্ট স্পষ্ট করেন।
ইরানি তেলের বিশ্বজুড়ে বৃহত্তম গ্রাহক চীন হলেও দেশটির পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানির পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে চীন দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনে। অথচ চলতি বছরের সূচনা পর্বেও এই হার প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত উঠেছিল।
ইরানকে আর্থিক দিক দিয়ে কোণঠাসা করতে গত ২৪ আগস্ট 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' শীর্ষক এক বিশেষ কৌশল গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইরানের সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যার আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত যেকোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, তেহরান মার্কিন এই সকল কঠোর ব্যবসায়ী পদক্ষেপকে মোটেও হালকাভাবে দেখছে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর অভিমত, তীব্র অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন বাধ্য হয়ে সামরিক পন্থায় প্রতিঘাত সৃষ্টির পথ অনুসরণ করছে।
মূলত চলমান সামরিক উত্তেজনার সমান্তরালে জ্বালানি রফতানি আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সংকুচিত করে তেহরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।