আন্তর্জাতিক কূটনীতির শীর্ষ আসর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সোমবার সকালে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক এই ফোরামের সাধারণ বিতর্ক পর্বে দেশের পক্ষ থেকে নীতি-নির্ধারণী বক্তৃতা উপস্থাপন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সোমবার ভোরের আলো ফুটতেই সফরসঙ্গী ও সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন সরকারপ্রধান। সকালে তাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, সংসদীয় হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিভিল প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় পৌনে নয় ঘণ্টার আকাশযাত্রা শেষে বিমানটির ইস্তাম্বুল পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে আড়াই ঘণ্টার যাত্রা বিরতি শেষে পুনরায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের পথে পাড়ি জমাবে প্রতিনিধিদলটি। স্থানীয় সময় বিকেলে সেখানে পৌঁছালে জাতিসংঘে দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে পুরো সফরকালে তিনি অবস্থান করবেন।
সফরসূচি নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম পূর্বে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সফরের প্রথম দিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত সরকারপ্রধানদের প্রাতরাশ এবং সাধারণ পরিষদের সূচনা পর্বে শরিক হবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা আসরেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরের পরবর্তী দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে বাংলাদেশের কণ্ঠ জোরালো করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে বৈশ্বিক বৈষম্য দূরীকরণ, জলবায়ুর ন্যায্য অংশীদারত্ব এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষত পরিবেশগত ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে ক্ষতিপূরণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের জোরালো দাবি জানাবেন তিনি। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের প্লাবন ঝুঁকি এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় উদ্যোগগুলো নিয়ে আয়োজিত একাধিক বিশেষজ্ঞ সেশনেও মূল বক্তব্য রাখবেন সরকারপ্রধান।
বহুপাক্ষিক এই সম্মিলনের ফাঁকে একাধিক রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসবেন তিনি। এর মধ্যে কুয়েতের যুবরাজ এবং পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান ও হাইতির সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়ে আলোচনার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার ও শরণার্থী সংস্থার শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। দেশের বাণিজ্যিক অগ্রগতির স্বার্থে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবশালী বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠকের সূচি চূড়ান্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বর্তমান প্রশাসনের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ এই সফর শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দেশের পথে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের।