মালয়েশিয়ার মাটিতে আয়োজিত বিশ্বমানের রোবোটিকস আসরে তথ্যপ্রযুক্তি ও রোবট উদ্ভাবন বিভাগে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে এনে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশের দুই উদীয়মান প্রতিযোগী। গৌরবোজ্জ্বল এই সাফল্য এনে দিয়েছে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ এলাকার বিদ্যাপীঠ কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মো. সামিউ ইমাম স্পর্শ এবং সানিয়া সাঈদ।
বুধবার প্রাতঃকালে মালয়েশিয়ার পেটালিং জয়া শহরে অবস্থিত স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেগি ইউনিভার্সিটির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ সমাপনী মঞ্চে বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুমার চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতী এই দুই খুদে বিজ্ঞানীর করতলে সেরা পুরস্কারের স্মারক তুলে দেন।
চলতি মাসের ১০ তারিখ হতে ২৩ তারিখব্যাপী চলা এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ থেকে সব মিলিয়ে তেইশটি দল অংশ নিয়েছিল। সামগ্রিক আসরে পৃথক তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তিনটি দল স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক রোবোটিকস ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নির্মিত নিজেদের তৈরি ‘ওয়াল-ই’ নামক প্রযুক্তি প্রকল্প উপস্থাপন করে বিচারকমণ্ডলীর সর্বাধিক মূল্যায়ন নম্বর নিয়ে একচ্ছত্রভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পর্শ ও সানিয়া জুটি।
কৃতী শিক্ষার্থী সামিউ ইমাম স্পর্শের গর্বিত মাতা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাষক বদরুন নাহার লরিন এই উল্লাসের মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যক্ত করেন, তাঁর পুত্র এবং সানিয়ার এই তাক লাগানো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটিকে গভীরভাবে গর্বিত করেছে। তাঁদের শিক্ষকবৃন্দ, সহপাঠী ও অভিভাবকমহলসহ এলাকার শুভানুধ্যায়ীরা এই অর্জনে আনন্দাশ্রুতে ভাসছেন। তাঁর মতে, এই বিরল প্রাপ্তি শুধু একটি শিক্ষালয় বা চাঁদপুরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে এক বিশাল আন্তর্জাতিক প্রাপ্তি।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান মো. জাকির হোসেন কামাল সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক দরবারে মাতৃভূমির নাম মহিমান্বিত করা এই দুই শিক্ষার্থীর জয়যাত্রা প্রমাণ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সৃজনশীল মেধা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার অমিত সম্ভাবনার কথা। উদ্ভাবনের পথে এই দুই তরুণের সামনের দিনগুলোতেও প্রতিষ্ঠানটির দিক থেকে যাবতীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বলকারী দুই খুদে উদ্ভাবক নিজেদের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পেছনে শিক্ষক মহোদয়দের নিবিড় নির্দেশনা ও অভিভাবকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রেরণার প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে।