মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের বিকল্প কিছু হতে পারে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, নিছক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে লাখ লাখ শরণার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে এই জটিল বাস্তবতার স্থায়ী নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিজ ভূমিতে তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই একমাত্র পথ এবং এ কারণে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া একান্ত জরুরি।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় সরকারপ্রধান এসব কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থানস্থল গ্র্যান্ড হায়াত সেন্ট্রালে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক জাতীয় সংবাদ সংস্থাকে বৈঠকের খুঁটিনাটি নিশ্চিত করেন।
সহকারী প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবসান, মিয়ানমারে তাদের স্বেচ্ছায় ও স্বস্তিতে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের নানা দিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। দুই পক্ষের আলাপে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
আলোচনাকালে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দিয়ে নজিরবিহীন মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন হাইকমিশনার বারহাম সালেহ। অন্যদিকে সমস্যাটির চিরস্থায়ী নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।