জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নুর।
কায়িক হামলায় জখম হওয়া গণঅধিকার পরিষদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতাকে দেখতে গিয়ে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এই অবস্থান প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনকালে জামায়াত-শিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রত্যাহার করে নেয়। এ অবস্থায় একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই উগ্রপন্থী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে গণহত্যার কারণে যেভাবে সাবেক সরকারি দলকে নিষিদ্ধের আওতায় আনা হয়েছে, একইভাবে একাত্তরের ভয়াবহ সহিংসতা, লুটতরাজ ও নারীর ওপর নির্যাতনের ইতিহাসের দায়ে জামায়াত-শিবিরকেও নিষিদ্ধ করা যুক্তিসংগত। সময়মতো এই গোষ্ঠীকে প্রতিহত করা না গেলে দেশে উগ্রপন্থা বিস্তৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠনগুলো বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর রূপরেখা সাজাতে পারে, যেখানে জামায়াত-শিবির তাদের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, অতীতে জামায়াত কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে, যা রোধ করা না গেলে সমগ্র সমাজে বিপর্যয় ঘটাবে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে দলটি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার মানসিকতা হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।
ওয়াজ ও ধর্মীয় সমাবেশে সামাজিক বিভাজন তৈরি করে এমন বক্তব্য প্রদানকারীদের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, বিতর্কিত বক্তাদের সমর্থন দিয়ে দলটি নিজেদের নৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটির নাম থেকে ধর্মীয় পরিচয় তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় আরোহণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছে।