শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক মিছিলে অংশগ্রহণ, বৃক্ষরোপণ ও নদী জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
বিরোধী জোটের দীর্ঘযাত্রা বা লংমার্চ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ প্রশ্ন তোলেন, যেখানে দেশে তেল ও গ্যাসের তীব্র হাহাকার রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে কীভাবে এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে। রাজপথে জ্বালানি অপচয় না করে রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় সংসদে এসে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জনদাবি ও জাতীয় সমস্যার টেকসই সমাধান খোঁজার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বিএনপি সরকারই সুচারুভাবে সম্পাদন করবে।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের দায় অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের ওপর চাপিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিগত সতেরো বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রাথমিক জ্বালানি আহরণ ও নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান প্রশাসন বিকল্প ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সার সংকটের খবরকে ভিত্তিহীন ও কুচক্রী মহলের অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ বিদ্যমান রয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসলেও একশ্রেণির গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা মোকাবিলায় সংসদে ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা প্রয়োজন।
এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। উক্ত অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতিত্ব করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নগরকান্দায় আয়োজিত উক্ত আনন্দঘন কর্মসূচিতে ফরিদপুর জেলা ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।