বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাসপাতাল থেকে পুনরায় কারাগারে ইমরান খান

ইসলামাবাদের আদিয়ালা জেল থেকে স্থানান্তরের পর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে আবারো কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত মিললে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে তাকে নিজের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে পুনরায় কারাগারে ইমরান খান

ইসলামাবাদের আদিয়ালা জেল থেকে স্থানান্তরের পর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে আবারো কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত মিললে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে তাকে নিজের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।


পিটিআই মুখপাত্র ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক আদেশে জানানো হয়েছিল, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে একটি মানসম্মত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে তার নিজস্ব চিকিৎসকের উপস্থিতিতে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি থাকা এই সাবেক বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের আইনজীবীরা দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, কারাগারে সঠিক পরিচর্যার অভাবে তার স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারাতে বসেছেন। যদিও শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন পিটিআই প্রধান, তবে দেশটির বর্তমান প্রশাসন প্রতিনিয়ত এই অভিযোগ খণ্ডন করে আসছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকার শুরুতে তা মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায়। সরকারপক্ষের যুক্তি ছিল, চিকিৎসকদের দেওয়া স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তাকে অবিলম্বে বেসরকারি কোনো হাসপাতালে ভর্তি করানোর মতো সংকট তৈরি হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানান, কারাবিধি মেনে যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির চিকিৎসা জেলখানা বা সরকারি হাসপাতালেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে সরকারি হাসপাতালেই তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায় সরকার। তবে সরকারের এই অবস্থানকে সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিরোধী দল পিটিআই। নির্ধারিত সময়ে স্থানান্তর না করা হলে আদালত অবমাননার মামলার হুশিয়ারি দেয় দলটি। রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়তে থাকলে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই এবং সরকার আইন মেনে চলতে বাধ্য।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইমরান খানকে নির্ধারিত হাসপাতালে পৌঁছানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্যানেল দীর্ঘ সময় ধরে তার সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। নিরীক্ষা শেষে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী ঘোষণা করা হলে দ্রুত তাকে পুনরায় আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াকালে হাসপাতালের আশেপাশে পিটিআইয়ের বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক তাদের নেতার হালনাগাদ তথ্যের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।