শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দলীয় পরিচয় ভুলে দেশের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতির পদে সমাসীন হওয়ার পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অনুগত না থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় পরিচয় ভুলে দেশের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতির পদে সমাসীন হওয়ার পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অনুগত না থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাষ্ট্রপ্রধানের আসীন হওয়ার পূর্বেই তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক দল, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভার সকল সদস্যপদ আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছেন। ফলে বর্তমানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের সাথে আবদ্ধ নন এবং নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পাদন করে যাবেন।


আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক দরবার অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান এসব কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর পদযাত্রায় কারও প্রতি কোনো ধরনের অনুরাগ বা বিরাগের স্থান নেই; বরং রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর মূল প্রতিপাদ্য। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনআস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সততা, একাগ্রতা ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রতি বিশেষ তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনকে দেশের স্বাতন্ত্র্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে এর গৌরবময় ইতিহাস ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দেন, যাতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি না ঘটে। এছাড়া সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অপচয় রোধ, প্রশাসনিক খরচ হ্রাস এবং জনগণের অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তারা সবাই বঙ্গভবন নামক একক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবারের সদস্য। তাই কাজের সুবিধার পাশাপাশি যেকোনো জটিলতা ও সংকট পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। নিজের বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এর পাশাপাশি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বিনির্মাণে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। সেই সাথে দেশের আগের সকল রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা ও অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আগামী দিনগুলোতে সকলকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।