সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অংশিদারিত্ব শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা

বর্তমান বৈশ্বিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, নানা প্রতিযোগিতা এবং বহুস্তরীয় কাঠামোর টানাপোড়েনের মাঝে সংস্কৃতির শক্তিকে কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিকল্প নেই।

অংশিদারিত্ব শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারি বাড়ানো, নাগরিক পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করা এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সরকার সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কাজী নজরুল ইসলামের ওপর আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘কাজী নজরুল ইসলাম : দ্য ইউনিভার্সাল ভয়েস অব ফ্রিডম অ্যান্ড হিউম্যানিটি’ শীর্ষক এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের সমাপনীতে পরিবেশিত হয় নান্দনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, নানা প্রতিযোগিতা এবং বহুস্তরীয় কাঠামোর টানাপোড়েনের মাঝে সংস্কৃতির শক্তিকে কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল প্রথাগত রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা কিংবা প্রথাসিদ্ধ কূটনৈতিক চর্চার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকা অসম্ভব। বিশ্ববাসীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে আজ সংস্কৃতির কোমল শক্তি বা সফট পাওয়ারের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, সৃজনশীল আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার পথ ধরে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সাথে আস্থার সম্পর্ক নির্মাণ করতে চায়, যেন নিজেদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষে মানুষে দূরত্ব ঘুচিয়ে সর্বজনীন মানবীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে একটি সমন্বিত মঞ্চ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, নজরুলের অমর সাহিত্য ও গান জাতীয় সীমানা ডিঙিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্প্রীতি ও সংহতির সেতুবন্ধ রচনার এক অসাধারণ শক্তি। তাঁর জীবনাদর্শ ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া তৈরিতে বহু আগেই ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা প্রদর্শন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে নজরুলের চেতনা আজও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কবিকে কেবল নির্দিষ্ট দিবসে স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাঁর সর্বজনীন সৃষ্টি ও চিন্তা বিশ্ববাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিস্তর সুযোগ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলের বৈচিত্র্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শনই আধুনিক বাঙালি সত্তার মূল ভিত্তি, যা আমাদের সমাজব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। বিশ্বমঞ্চে নজরুলকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা গেলে বাংলাদেশকে একটি বহুত্ববাদী, আত্মবিশ্বাসী এবং শান্তির পক্ষের জাতি হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তাঁর দর্শন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের নবদিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং কবি আবদুল হাই শিকদার। সেমিনারে মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।