প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বন্যাকবলিত নেপালি ভূখণ্ড চিতওয়ান সংলগ্ন ভারতের উত্তর প্রদেশের দুটি সীমান্ত জেলা মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের প্রবাহমান নদীসমূহ থেকে ভাসমান এই দেহগুলো উদ্ধার করেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মহারাজগঞ্জের প্রশাসনিক প্রধান গৌরব সিং সোগরওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার নদীর স্রোতে ভেসে আসা পরিচয়হীন চারটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক বিচারে ধারণা করা হচ্ছে, নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্ট হড়কা বানের তীব্র তোড়েই দেহগুলো ভারতীয় সীমান্তে ভেসে এসেছে।
একই প্রক্রিয়ায় সীমান্ত থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার অভ্যন্তরে কুশীনগর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত নদী থেকেও আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা। উদ্ধারকৃতদের নাম-পরিচয় ও সুনির্দিষ্ট নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই অনুসন্ধানী তৎপরতা জোরদার করেছে ওখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অপরদিকে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও বহু নাম, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার চারজনে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর সাথে যোগাযোগ মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র এখনো অস্পষ্ট এবং এই সংখ্যা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ মোট পাঁচশত ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অগণিত মানুষের সন্ধান মেলেনি, যাদের উদ্ধারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।