রাজধানীর সবুজবাগে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে এসে ধারালো অস্ত্রের হামলায় সিফাত উল্লাহ (২৭) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে আদর্শপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত সিফাতকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিফাত উল্লাহর বাড়ি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সিফাত কাতারে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের সবুজবাগ জোনের সহকারী কমিশনার ইমরানুল ইসলাম বলেন, সবুজবাগ এলাকায় একটি বাসার কাছে ওই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘প্রেমসংক্রান্ত’ বলে জানা গেছে।
তিনি জানান, এক তরুণীর সঙ্গে সিফাত দেখা করতে এসেছিলেন। তার আসার খবর পেয়ে সেখানে আরেকজনও আসেন। পরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই তরুণী ও তার এক বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
‘৬-৭ জনের দল হামলা চালায়’
ওই তরুণী জানান, সিফাত তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জনের একটি দল তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাকে একাধিকবার কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তরুণীর ভাষ্য, সিফাতের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের বিয়ের বিষয়ে পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সিফাতের সঙ্গে হামলাকারীদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল।
সিফাতের বন্ধু হাসান জানান, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে জয়ের সঙ্গে সিফাতের বিরোধ ছিল। রোববার জয় ও আরও ২-৩ জনের সঙ্গে সিফাতের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করেন।
হাসান বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে আগে সিফাতের সম্পর্ক ছিল। পরে জয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। রোববার সিফাত মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জয় তাকে দেখে ফেলেন। এরপর অন্যদের সঙ্গে নিয়ে সিফাতের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সিফাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সবুজবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।