নাগরিকদের সার্বিক অধিকার সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সুবিধাজনক মূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার সুব্যবস্থা করাই বর্তমান শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘২য় ঢাকা আন্তর্জাতিক হাঁটু সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড আর্থ্রোপ্লাস্টি একাডেমি ও আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক চিকিৎসা জ্ঞান ও দক্ষ পেশাদারিত্বের সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সুপার-স্পেশালাইজেশনের বর্তমান যুগে বিশ্বমানের চিকিৎস প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে না চললে আধুনিক স্বাস্থ্য চাহিদার বিপুল চাপ সামলানো কঠিন হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বাজেট কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, জনগণের সার্বিক সুরক্ষায় বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। জাতীয় বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করা হয়েছে। তবে কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; চিকিৎসা শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধে এই মেগা বাজেটের সুষম ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে সফল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট চিকিৎসককে বিশেষ ফেলোশিপে ভূষিত করা হয় এবং ‘সেভ ইয়োর নি’ শীর্ষক একটি বিশেষ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্থ্রোপ্লাস্টি সোসাইটির সভাপতি ডা. এম. আলী।