বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বিএনপি সামান্যতম সময়ও দ্বিধাবোধ করে না। তিনি মন্তব্য করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তাদের উচিত অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে সমাজে বিদ্যমান অসমতা চিরতরে নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া।
শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড ময়দানে দলটির জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মূল্যায়ন তুলে ধরেন। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গণভোটের রায় কার্যকর না করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
বক্তব্যে মামুনুল হক জানান, সব রাজনৈতিক শক্তির ঐকমত্য এবং জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে সংবিধান পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। শাসনব্যবস্থায় বৈষম্য, চাঁদাবাজি ও কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা অবসানের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামী পাঁচ বছর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজপথের কর্মসূচি দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যথায় সিন্ডিকেটের প্রভাবে জাতীয় জ্বালানি ও সারসহ মৌলিক সম্পদ বাইরের শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমান্বয়ে তীব্র রূপ নেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বর্তমান প্রশাসনের বৈধতার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একই দিনে, অভিন্ন নির্বাচন কমিশনের অধীনে যুগপৎভাবে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছিল। সাধারণ ভোটে বিএনপি যেখানে অর্ধেকের মতো সমর্থন পেয়েছে, সেখানে গণভোটের পক্ষে রায় এসেছে প্রায় সত্তর শতাংশ। তবে ক্ষমতায় আসীন হয়ে সরকার গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর দাবি করায় তাদের নিজেদের আইনি ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নয় মাসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ৮৩টি দীর্ঘ আলোচনায় তাঁদের দল ৩৩টি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করেছে। সেই আন্দোলনের মূল অভিপ্রায় ছিল দুটি—প্রথমত, কোটা, স্বজনপ্রীতি বা দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে মেধার মূল্যায়নে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ; দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রে চিরতরে স্বৈরাচারী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা। এ কারণেই সকল পক্ষের সম্মতিতে ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
খেলাফত মজলিসের আমির আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে রাজপথে লড়াই এবং কারাবাস ভোগ করার পর তাঁরা নতুন করে কোনো বিরোধিতায় জড়াতে চাননি। বরং সরকার ভালো কাজ করলে পূর্ণ মেয়াদ অপেক্ষা করতেও আপত্তি ছিল না। তবে বিপুল প্রাণহানি ও রক্তপাতের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পর নতুন কোনো দুঃশাসন দেখতে জনগণ প্রস্তুত নয়।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদিসহ জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যাঁদের প্রাণের বিনিময়ে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব হলো, আজ তাঁদের হত্যার বিচার দাবিতেই রাজপথে কর্মসূচি দিতে হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংবিধানে স্থায়ী সংস্কার এনে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে পিছু হটলে দল হিসেবে বিএনপিকে ইতিহাসে চরম বিশ্বাসভঙ্গের দায় বহন করতে হবে।
জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ এবং কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।