ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নয়াদিল্লির রাজপথে নামা তরুণ সমাজের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি গভীর একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে ভারতীয় তরুণরা একা নন, ঢাকা থেকেও তাঁদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
শনিবার রাতে নিজের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভারতের শিক্ষার্থী, তরুণ ও গণতান্ত্রিক শক্তির উদ্দেশ্যে এই সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটাধিকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে সোচ্চার তরুণদের এই প্রয়াস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ সংগঠক ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তৎকালীন সময়ে তাঁর ঘোষিত চূড়ান্ত দফার তীব্র আন্দোলনের মুখে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটেছিল।
ভারতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়, সংবাদকর্মী ও সংগঠকদের আটক, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং জনসমাবেশে বাধা সৃষ্টির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে। তিনি নির্বাচন পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত উদ্বেগের সুরাহা করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি স্বচ্ছ আচরণের তাগিদ দেন।
বাংলাদেশের বিগত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিতের অভিন্ন আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে বলেই তাঁরা আন্দোলনরতদের আবেগ ও দাবিকে অত্যন্ত গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছেন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তাল দিনগুলোতে ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও মুক্তমনা সচেতন নাগরিকদের অকৃত্রিম সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ কোনো ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদ, সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্য কিংবা ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ভারতের মাটিতেও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক পরমতঅসহিষ্ণুতার কোনো স্থান নেই।
প্রতিবাদকারী তরুণদের অটুট থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, পারস্পরিক ঐক্য বজায় রেখে সব ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা রুখে দিতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাকে বিভাজন কিংবা কর্তৃত্ববাদের জিম্মায় ছেড়ে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।