ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মুহুর্মুহু আক্রমণ প্রতিহত করতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় রসদ ও আকাশপথের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য, আর ফরাসি প্রশাসন নজর দিচ্ছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তায়।
সোমবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে যোগদানের প্রাক্কালে গণমাধ্যমের সামনে এই পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ব্রিটিশ সরকারপ্রধান অ্যান্ডি বার্নহাম।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, রিয়াদের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রয়েল এয়ার ফোর্সকে সৌদি যুদ্ধবিমানে মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান নয়, বরং পুরোপুরি সুরক্ষামূলক এবং একটি সীমিত সময়সীমার জন্য প্রযোজ্য হবে, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সাথে হুথিদের সামরিক সংঘাত চরমে পৌঁছালে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বিদ্রোহীরা, যা আকাশে থাকতেই প্রতিহত করে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে লোহিত সাগরের কৌশলগত মোকা বন্দর ও সংলগ্ন দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মানদেব প্রণালিতে নজরদারি বাড়িয়েছে হুথিরা, যা দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্যের প্রায় বারো শতাংশ পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটেই নিজেদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তা কামনা করে রিয়াদ।
বার্নহামের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের ধারাবাহিকতা অটুট রাখতেই সামরিক এই সম্পৃক্ততার সিদ্ধান্ত। দেশটির সংবাদ সংস্থা পিএ নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ, কেবল বায়ুপথের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধেই নিয়োজিত থাকবে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের এই বহর এবং খুব দ্রুতই একটি বিশেষ ভয়েজার উড়োজাহাজ এই অভিযানে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক কূটনৈতিক তথ্যে জানা গেছে, লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকো তেল শোধনাগার এবং দেশের পূর্ব-পশ্চিম তেল সংযোগ পাইপলাইনের ওপর সম্ভাব্য হামলা রুখতে সার্বিক নজরদারি ও প্রতিরক্ষামূলক সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে ফ্রান্স। তবে প্যারিসের এই উদ্যোগ কেবল নির্দিষ্ট জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এটি কোনোভাবেই বিদ্রোহীদের সাথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়ানোর শামিল নয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সূত্র : ডন ও আলজাজিরা