ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি আঘাত হানার সুস্পষ্ট গোয়েন্দা পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিমুক্ত এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার কৌশলগত প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিটের শীর্ষ অধিনায়ক। এর কিছুদিন পরেই কুয়েতের সংশ্লিষ্ট বন্দর এলাকায় তেহরানের ড্রোন আঘাত হানে, যার ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েন এবং আক্রান্ত হন বহুসংখ্যক আমেরিকান সেনাসদস্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর সপ্তাহখানেক পূর্বে কুয়েতে দায়িত্বরত সিংহভাগ স্থল ও বিমানসেনাকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জর্ডান ও সৌদি আরবের বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে ইরানের সরাসরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যসীমা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা।
তবে কুয়েতে অবস্থানরত ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সুরক্ষায় আরও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অন্তত দুটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছিল। এর একটি ছিল সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর সন্নিকটে অবস্থিত লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট এরিয়া জেনকিনস এবং দ্বিতীয় বিকল্পটি ছিল রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমটি জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এই প্রস্তাবনাগুলো কমান্ড নেতৃত্বের টেবিলে তোলা হলেও ইউনিটের তৎকালীন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস তা সরাসরি বাতিল করে দেন।
তিনি বিকল্প স্থানান্তরের পরিবর্তে পুরোনো একটি ব্যবস্থাপনা বহাল রাখার পথ বেছে নেন। এর পূর্বে গত জুলাইয়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত বারো দিনের সংঘাতের সময় আপৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে ক্যাম্প আরিফজান থেকে মার্কিন সেনাদের সাময়িকভাবে শুয়াইবা বন্দরে সরিয়ে নেওয়ার নজির ছিল, যা এবারও অনুসরণ করা হয়।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য সিবিএস নিউজকে জানান, জুলাই মাসের সংঘাতকালীন পরিবেশের সাথে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কোনো মিল ছিল না। তৎকালীন সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় মূলত আকাশে ধ্বংস হওয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট রকেট বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ গায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল, সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, বন্দর এলাকায় প্রাণঘাতী হামলাটি সংঘটিত হওয়ার আগে কুয়েতের ওই নির্দিষ্ট অবস্থানের ওপর আক্রমণ হতে পারে বলে স্পষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এমন ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য হাতে থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ ওই সেনা কর্মকর্তা কেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন, সেই নেপথ্য কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
সূত্র : সিবিএস