তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ত্রিভূজের মধ্যে ভরসার জায়গায় আঘাত লাগলে চিকিৎসকেরা যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন, তেমনই রোগীরাও আস্থা হারাবেন। ফলে কেবল হাসপাতালের ঝাঁ-চকচকে ভবন বানালেই চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা যাবে না।
শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ১৫ তলা বিশিষ্ট দ্বিতীয় ভবনের ফলক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি আধুনিক স্বাস্থ্যকাঠামোর প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তিগত বিস্তার নয়; বরং সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য সহজ, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। এই নতুন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই পরম লক্ষ্য পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী পর্বে দেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই চিকিৎসাকেন্দ্রটির প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়াই স্থাপন করেছিলেন। কালের আবর্তে যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে হাসপাতালটি আজ বিশাল পরিসরে রূপ লাভ করেছে।
চিকিৎসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রকাশের বার্তা দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি হয়তো ব্যাধি শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর মনে চেপে থাকা ভয় ও আতঙ্ক দূর করার ক্ষমতা একমাত্র চিকিৎসকের অমায়িক ব্যবহারের মধ্যেই নিহিত। রোগীর কষ্ট অনুধাবন করা ও ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর কোনো বিকল্প হতে পারে না। অবশ্য পুরো হাসাপাতালের নিরাপদ পরিবেশ রক্ষা করা কেবল চিকিৎসকদের একার কাজ নয়, এটি সর্বস্তরের মানুষের যৌথ দায়িত্ব।
দেশের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নত চিকিৎসা শুধু নগরভিত্তিক বা সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা টেকসই হতে পারে না। গ্রামে বসেই যেন রোগীরা সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে ডিজিটাল ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের টেকসই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। সে লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তনের কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গঠন কেবল মৌখিক কথা নয়। কোনো নাগরিক যেন অর্থাভাবে সেবা বঞ্চিত না হন কিংবা চিকিৎসার তাগিদে বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিতে বাধ্য না হন, সেই লক্ষ্যেই বাজেট বণ্টনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন অবকাঠামো যুক্ত হওয়ার ফলে স্ট্রোক, পারকিনসন্স, এপিলেপসির মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগের আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা ও উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি মাইলফলক স্থাপন করবে।
উক্ত গৌরবময় আয়োজনে বিশেষ অতিথি পদে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।