সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি, বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় ৩৫ উড়োজাহাজ

নতুন এই চুক্তির অধীনে চারটি প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি সরু কাঠামোর এ৩২১নিও মডেলের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি, বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় ৩৫ উড়োজাহাজ
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে দশটি নতুন আকাশযান সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির ভবিষ্যৎ বহরে যুক্ত হতে যাওয়া পরিকল্পিত উড়োজাহাজের মোট সংখ্যা দাঁড়াল পঁয়ত্রিশটিতে।

নতুন এই চুক্তির অধীনে চারটি প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি সরু কাঠামোর এ৩২১নিও মডেলের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর পর্বে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন এয়ারবাসের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তিকে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি উড্ডয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রথমবার সংস্থাটির বহরে জায়গা করে নিচ্ছে ইউরোপীয় প্রযুক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০ উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার গন্তব্যে এবং ছয়টি এ৩২১নিও মাঝারি ও আঞ্চলিক আকাশপথে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করা হবে। আগামী দিনে বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি বহুমুখী শক্তিশালী বহর পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এয়ারলাইনটি।

পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে দুই ধাপে মোট পঁচিশটি আকাশযান সংগ্রহের বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল। এর মধ্যে প্রথম দফায় আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে আরও পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ যুক্ত করে বোয়িংয়ের বহরটিকে সম্প্রসারিত করা হয়।

সব মিলিয়ে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে বিমানের পরিকল্পিত বহরে এখন উনিশটি ওয়াইডবডি এবং ষোলটি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ প্রস্তুত হচ্ছে। এই ব্যাপক আধুনিকায়নের ফলে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সব রুটে চাহিদামাফিক আকাশযান পরিচালনার গতি ও সক্ষমতা বাড়বে। তবে এসব নতুন উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হতে সময় লাগবে বিধায় মধ্যবর্তী সময়ের তাৎক্ষণিক ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনার বিকল্পটিও বিবেচনায় রাখছে কর্তৃপক্ষ।