রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পশ্চিম এশিয়ায় সেনা ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

পশ্চিম এশিয়ায় সেনা ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে সফল হলে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সেনা, গোয়েন্দা সদস্য ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অন্তত ছয়জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়ায় ওয়াশিংটন। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন অবকাঠামোর বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন হলো—যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও পশ্চিম এশিয়ায় কতটা সামরিক উপস্থিতি রাখা হবে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা না করায় কর্মকর্তারাও তার পরবর্তী পদক্ষেপ বোঝার চেষ্টা করছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অনেকেই ট্রাম্পকে এমন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন, যিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। এর আগে বিদেশে মার্কিন সেনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাই যুদ্ধ শেষ হলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা দেখছেন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধের তীব্র সময়ে যেসব সিআইএ কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আবার পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।

একই সময়ে যুদ্ধ শেষে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা জোরদারের উপায় খুঁজছে সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে কিছু সামরিক কেন্দ্র ও স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে তারা।

পেন্টাগন অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি ঘাঁটি ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে এসব ঘাঁটির ঝুঁকি নতুন করে সামনে আসায় পরিকল্পনাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব দুর্বলতার বিষয়ে আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সেগুলোকে জরুরি সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে যুদ্ধ চলাকালে বিমান হামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এসব কৌশলগত ঘাঁটি ছেড়ে দেওয়া এখনই যুক্তিযুক্ত হবে না বলেও কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে জানতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন। সেখান থেকে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান যুদ্ধ কমান্ড বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সিআইএ-ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।