শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইয়েমেনের মোচা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪

লোহিত সাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ ইয়েমেনি বন্দর শহর মোচায় ছয়টি ধ্বংসাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনের মোচা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪

লোহিত সাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ ইয়েমেনি বন্দর শহর মোচায় ছয়টি ধ্বংসাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে ইয়েমেন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।


মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই ইয়েমেনের উপকূলে এই আঘাত নতুন করে বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের বার্তা দিচ্ছে।

ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, হুতিদের এই ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয় মোচা বন্দরের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক পরিকাঠামো এবং সংলগ্ন সাধারণ জনবসতি এলাকা লক্ষ্য করে। অতর্কিত এই হামলায় ঘাটিতে কর্মরত এক বন্দর রক্ষীসহ চারজন প্রাণ হারান। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সাগরে থাকা একাধিক মাছ ধরার ট্রলারে আগুন ধরে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পানির নিচে এখনো দুজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

পরবর্তীতে এ হামলার দায় স্বীকার করে এক বিবৃতিতে হুতি বাহিনী দাবি করে, তারা মোচা বন্দরে অবস্থানরত সৌদি সমর্থিত সামরিক ঘাঁটির মূল সমাবেশ এবং তাদের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের লক্ষ্যেই ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়েছিল।

একই সাথে গোষ্ঠীটি দাবি করে, তারা সীমান্ত সংলগ্ন দেশটির নাজরান এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘সৌদি আরামকো’ তেল শোধনাগারে সফলভাবে একাধিক ড্রোন হামলা সম্পন্ন করেছে। তাদের ইয়েমেনি প্রদেশ সা’দার আকাশসীমায় সৌদি বিমানবাহিনীর অনুপ্রবেশের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই সামরিক প্রতিক্রিয়া চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে আরামকোর তেল কেন্দ্রে ড্রোন আঘাতের বিষয়ে সৌদি রাজপরিবার বা উক্ত তেল প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা আচমকা ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিজেদের দখলে নিলে পুরো দেশে গৃহযুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। বহু বছর পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ব্যাপক মাত্রার আক্রমণ বন্ধ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দেখা মেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরে চলা এই নতুন সহিংসতা ইয়েমেনের সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আবারও কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।