নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের বড়াইপাড়া গ্রামে সংঘটিত এই সহিংসতায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত কর্মী কবির হোসেনের বাড়িতে হঠাৎ করে একদল লোক হামলা চালায়। এতে কবির হোসেনসহ তার বাবা তাজুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মুসা মিয়া, সানাউল্লাহ ও ফারুক হোসেন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এই হামলার প্রতিবাদে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরে সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নির্দেশে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এই হামলায় অংশ নেয়। তার দাবি, জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ না দেওয়া এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরেই কবির হোসেনের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে উপজেলা বিএনপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হলেও নির্বাচনের সময়ে তা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।