বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আদালতে বিচারকের সামনে নারী বিচারপ্রার্থীর বিষপান

ফেনীতে আদালত চলাকালীন বিচারকের উপস্থিতিতেই বিষপান করেছেন এক নারী বিচারপ্রার্থী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদালতে বিচারকের সামনে নারী বিচারপ্রার্থীর বিষপান

ফেনীতে আদালত চলাকালীন বিচারকের উপস্থিতিতেই বিষপান করেছেন এক নারী বিচারপ্রার্থী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার (১০ মে) দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজের মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা ও মানসিক চাপে ছিলেন তাহমিনা আক্তার মোহনা। শুনানির সময় হঠাৎ করেই তিনি সঙ্গে থাকা বিষপান করেন। সে সময় কাঠগড়ায় তার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই আদালত কক্ষের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর ফুলগাজীর বিজয়পুর এলাকার চার সন্তানের জনক আকবর হোসেনকে বিয়ে করেন মোহনা। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে বনিবনা না হওয়ায় গত ২৯ জানুয়ারি তিনি আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিচার চেয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি চরম হতাশা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি তাদের।

ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, বিষপানের পর দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

অন্যদিকে মোহনার আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মক্কেলকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়নি এবং নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, “স্বামীর বাড়িতে গাছের সঙ্গে বেঁধে পর্যন্তও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।”

তিনি জানান, রোববার মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য নির্ধারিত ছিল, তবে আসামি বারবার সময় নিয়ে বাদীর সঙ্গে প্রতারণা করছিল। শুনানির সময় ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই মোহনা বিষপান করেন। পরে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।