আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানে কমপক্ষে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ আরও ৭৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাণ্ডব
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হওয়া এই হামলায় হতাহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ও অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তালেবান প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে আহতদের মধ্যে ৩০ জনই শিক্ষার্থী। আসাদাবাদ শহরের প্রত্যক্ষদর্শী মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মাতিউল্লাহ শাহাব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুপুর ২টার দিকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।
আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "কুনার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মর্টার ও রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পাকিস্তান এই অভিযানে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর’ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, পাকিস্তানি বাহিনী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালায়নি।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও তালেবানের কঠোর হুঁশিয়ারি
চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এতদিন তালেবান নেতারা সংযম প্রদর্শন করলেও এই ঘটনার পর তাদের সুর পাল্টে গেছে। তালেবান মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এই হামলাকে অভিহিত করেছেন, "অমার্জনীয় যুদ্ধাপরাধ, চরম নৃশংসতা এবং উসকানিমূলক পদক্ষেপ।"
উল্লেখ্য, এর আগে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছিল।
সংকটের মূলে টিটিপি ইস্যু
এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান ও তালেবান সরকারের বর্তমান সম্পর্কের তলানিতে ঠেকানোর মূল কারণ ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে টিটিপি নিরাপদ আশ্রয় গেড়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সীমান্তে এখন কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা।