আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী আল-আকসা প্রাঙ্গণে একমাত্র মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উপাসনা করার আইনি অধিকার রয়েছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের প্রত্যক্ষ মদদে দুই হাজারের বেশি উগ্র ইসরায়েলি নাগরিক সেখানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে নিজস্ব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আম্মান প্রশাসন এই নজিরবিহীন ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব এবং অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো হাশেমাইট রাজপরিবারের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্বকে আরও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আল-আকসার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থিতাবস্থা ক্ষুণ্ণ করা হলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পুরো মুসলিম বিশ্বে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে।
পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো আগ্রাসন এবং সেখান থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জর্দানের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার সম্ভাব্য চক্রান্ত নিয়েও আম্মান চরম উদ্বিগ্ন। ফিলিস্তিনিদের এমন গণবাস্তুচ্যুতির প্রক্রিয়াকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে বিবেচনা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফাদি। এমনিতেই জর্দানের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি অংশ ফিলিস্তিনি শরণার্থী, ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। তাছাড়া গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে জর্দানের কড়া সমালোচনার জবাবে ইসরায়েল চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা পানির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরের ভেতরের নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে আম্মানকে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে জর্দানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো তেল আবিবের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের জোর দাবি জানাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্দানের মাটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি এবং তার জবাবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টাধাওয়া, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশটির নাগরিক সমাজ। একদিকে আঞ্চলিক সীমান্ত সংঘাত ও অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে আল-আকসার অভিভাবকত্ব বজায় রাখা এবং সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এখন জর্দান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।