রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আল-আকসায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ১৩ ইহুদি তরুণ আটক

ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শাভুওতকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনধিকার প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টার অভিযোগে ১৩ জন ইহুদি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।

আল-আকসায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ১৩ ইহুদি তরুণ আটক
ছবি : সংগৃহীত

ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শাভুওতকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনধিকার প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টার অভিযোগে ১৩ জন ইহুদি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার এই আটকের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পবিত্র ওই চত্বরে প্রবেশ করে এবং ধর্মীয় আচার সম্পাদনের উদ্দেশ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।

টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অতীতের ঘটনাগুলোর মতো এবার কোনো পশু বলি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। তবে দেশটির অন্য একটি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, অভিযুক্তরা এবার পশুর বদলে নিজেদের সঙ্গে বড় আকৃতির পাউরুটি নিয়ে এসেছিলেন।

মূলত ইহুদিদের ফসল কাটার উৎসব শাভুওত-এ মাঠ থেকে নতুন তোলা গম দিয়ে প্রস্তুত করা রুটি উৎসর্গ করার একটি প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা রয়েছে। প্রায় দুই সহস্রাব্দ আগে রোমানদের হাতে এই স্থানে অবস্থিত দুটি ইহুদি মন্দির ধ্বংস হওয়ার পর থেকে মূলধারার ইহুদি সমাজে এই ধরণের বলিদানের কোনো চর্চা নেই। তা সত্ত্বেও প্রতি বছরই কিছু চরমপন্থী ইহুদি গোষ্ঠী এই প্রাচীন নিয়মটি পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্যে পবিত্র চত্বরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, আটক হওয়া তরুণরা আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রকের স্থলে তৃতীয় একটি ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা উগ্রপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জড়িত।

এর আগে গত মে মাসের শুরুতে এবং তার এক মাস পূর্বেও আল-আকসা প্রাঙ্গণে ছাগল এনে বলি দেওয়ার চেষ্টা করার অপরাধে যথাক্রমে ২১ জন এবং ১৪ জনকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক চত্বরটি দীর্ঘকাল ধরেই দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনার মূল কেন্দ্র। এই স্থানে অমুসলিম বা ইহুদিদের জন্য প্রকাশ্যে উপাসনা করা কিংবা কোনো ধরনের সামগ্রী উৎসর্গ করার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।

যদিও ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনার অধিকারের পক্ষে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন, তবে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে এই বিতর্কিত স্থানের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

পবিত্র এই স্থানে এ ধরনের উস্কানিমূলক আচরণের ব্যাপারে খোদ ইসরায়েলের মূলধারার ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে। অনেক ইহুদি শাস্ত্রবিদ মনে করেন, সাধারণ ইহুদিদের জন্য এই চত্বরে প্রবেশ করাই ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ। ওয়েস্টার্ন ওয়ালের প্রধান রাব্বি শ্মুয়েল রাবিনোভিচ ইতিপূর্বে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আল-আকসা প্রাঙ্গণে কোনো কিছু উৎসর্গ করার এই প্রচেষ্টা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রধান রাব্বিনেটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং একটি বেআইনি কাজ।