জাতীয় পর্যায়ে নৈতিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটানো অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
তিনি জানান, আমাদের বিদ্যমান মূল্যবোধের যে বিচ্যুতি ঘটেছে, তা উত্তরণে নীতিগত পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে পারিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুফল যেন শিক্ষার্থীরা পায়, সেটিই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অষ্টম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত সারাদেশে বিএনসিসি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এই সংগঠনটিকে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও দক্ষ করে তোলা যায়, সে বিষয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
একই সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দদায়ক শিক্ষা সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যেন কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে পারে, তেমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং নীতি ও নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজানো হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিএনসিসি, গার্লস গাইড, স্কাউট এবং রোভার স্কাউটের মতো কার্যক্রমগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার।