জাতীয় সংসদে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পকে বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার ১৫ এপ্রিল সংসদের প্রশ্নোত্তরের সময় সিলেট-৩ আসনের জনপ্রতিনিধি আব্দুল মালিকের একটি সম্পূরক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্পিকার তার বক্তব্যে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, ভারতের মণিপুর রাজ্যের বরাক নদীতে পরিকল্পিত এই টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পটি মূলত তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের বিশেষ অনুরোধেই সূচিত হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় নিজেরাই আমন্ত্রণ জানিয়ে আমরা এই সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।
এর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে সিলেট অঞ্চলের পানিবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্ষা মৌসুমে উজানের পাহাড়ি ঢলে এই জনপদ তলিয়ে যায়, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকটে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ ভাবনা ও পাহাড়ি ঢল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।
উত্তরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, উদ্ভূত এই জাতীয় সমস্যা নিরসনে তিনি দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
প্রসঙ্গগত, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ। তবে এই বাঁধের প্রভাবে ভাটির দেশে পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।