বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই : জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী না হওয়ায় এখন সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলাই তাদের একমাত্র পথ।

আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই : জামায়াত আমির
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী না হওয়ায় এখন সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলাই তাদের একমাত্র পথ।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত নোটিশের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংসদের ভেতরেই আইনি প্রক্রিয়ায় সংকটের সমাধান এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সরকার ও স্পিকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় এবং জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের দাবি আদায় করতেই এখন তারা রাজপথে যাবেন।

সাবেক তিনটি গণভোটের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এবার সরকারি ও বিরোধী দল একমত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে জনআকাঙ্ক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তবে তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, তারা সংসদ বর্জন করছেন না, কেবল প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সাময়িক ওয়াকআউট করেছেন। তার ভাষায়, তারা ওয়াকআউট করলেও লড়াই ছেড়ে দেননি বা সংসদ থেকে ইস্তফা দেননি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তাদের জোটভুক্ত ১১টি দল দ্রুত বৈঠকে বসবে এবং জনগণের অধিকার ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সংগ্রাম কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সংবিধানের সংস্কার নিশ্চিত করার স্বার্থে।

এর আগে সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের আনা নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে তা না পেয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। স্পিকার তাদের ওয়াকআউট করার অধিকারের কথা স্বীকার করে জানান যে, পরবর্তীতে একটি মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর উত্তর মিলতে পারে। তবে বিরোধী দল সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়েই প্রতিবাদলিপি পেশ করে বেরিয়ে আসে।