বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আরব দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে তেহরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ইরানি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বিস্ময়কর

আরব দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার আমিরাত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে তেহরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ইরানি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্রের অর্ধেকেরও বেশি ছোড়া হয়েছে আমিরাত অভিমুখে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো রাজধানী আবুধাবির দক্ষিণাঞ্চলের আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং অন্যটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর। ইরানি হামলার সিংহভাগ এই দুই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও আমিরাতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ তেলখনি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসও আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমিরাতে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন সেনাসদস্য এবং বাকি ছয়জন সাধারণ নাগরিক।

এই যুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক টানাপড়েন। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীও অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে সমান্তরাল হামলা পরিচালনা করতে থাকে।

পশ্চিমা ও ইসরায়েলি বাহিনীর এই যৌথ আক্রমণে ইরান অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজনানি এবং আইআরজিসি-র জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইরানে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংস হয়েছে দেশটির অসংখ্য সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা।

তবে শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুতে দমে না গিয়ে ইরানও সমানতালে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তেহরান দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।