বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশকে খেলা দেখা থেকে বিরত রাখতে নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির প্রশাসন।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘এএস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুয়েনস আইরেস প্রশাসন ওয়াশিংটনের কাছে প্রায় ১৩ হাজার নাগরিকের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা হস্তান্তর করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আইন অনুযায়ী নিজেদের সন্তানদের খোরপোশ বা চাইল্ড সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আর্জেন্টাইন সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, যে সমস্ত নাগরিক নিজের পরিবারের প্রতি মৌলিক দায়িত্ব পালনে উদাসীন, তাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসব উপভোগ করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। এই বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সন্তানদের ভরণপোষণ না দিয়ে যারা খেলাধুলার পেছনে অর্থ উড়াচ্ছেন, তাদের কোনোভাবেই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
পারিবারিক দায়িত্বের এই অবহেলা রোধে আর্জেন্টিনা সরকার ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, আদালতে যাদের বিরুদ্ধে সন্তানদের বকেয়া খোরপোশ না দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিনোদনমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা।
অভিযুক্তদের স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি নিটোল নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যাতে কালো তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে টিকিট কেটেও প্রবেশ করতে না পারেন।
বিগত ২০২৩ সাল থেকে এই নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রায় ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লক্ষাধিক দর্শকের পরিচয়পত্র ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ১ হাজার ১৬৬ জনকে শনাক্ত করার পাশাপাশি অনেকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, কেবল চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নন, ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতা, হাঙ্গামা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা উগ্র সমর্থকদেরও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, সব মিলিয়ে ১৫ হাজারেরও বেশি উগ্র ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সমর্থকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চকে অপরাধমুক্ত রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।