বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আশাব্যঞ্জক শুরু থেকে ব্যাটিং বিপর্যয়, সিরিজ হাতছাড়া টাইগারদের

চট্টগ্রামের দর্শকেরা আজ দুই ভিন্ন চিত্রের ইনিংসের সাক্ষী হলেন—একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ গড়া, অন্যদিকে দারুণ সূচনার পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের ব্যবধানে হেরে সিরিজও হারাল টাইগাররা।

আশাব্যঞ্জক শুরু থেকে ব্যাটিং বিপর্যয়, সিরিজ হাতছাড়া টাইগারদের

চট্টগ্রামের দর্শকেরা আজ দুই ভিন্ন চিত্রের ইনিংসের সাক্ষী হলেন—একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ গড়া, অন্যদিকে দারুণ সূচনার পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের ব্যবধানে হেরে সিরিজও হারাল টাইগাররা।

প্রথম ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতে ধাক্কা খেলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দীর্ঘ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। মাত্র ৬ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ওঠে ৭২ রান, যেখানে তামিমই ছিলেন একমাত্র উইকেট হারানো ব্যাটার।

পাওয়ারপ্লের পর সৌম্য সরকার দ্রুত ফিরে গেলেও সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন রান তাড়ার গতি ধরে রাখেন। ১৩ ওভার শেষে দল পৌঁছে যায় ১৩০ রানে, মনে হচ্ছিল সহজেই সিরিজে সমতা ফেরাবে বাংলাদেশ।

কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় নাটকীয়ভাবে। ১৩তম ওভারে অ্যারন হার্ডিকে ছক্কা মারতে গিয়ে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দেন ইমন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পরের ওভারে আরও বড় ক্ষতি হয় বাংলাদেশের। মাত্র ৩ বল আগে ৩৬ রান করা ইমন আউট হওয়ার পর সাইফ হাসানও অপ্রয়োজনীয় শটে উইকেট ছুড়ে দেন—ওয়াইড বল তাড়া করতে গিয়ে কভারে মার্শের হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ৩৩ বলে ৪২ রানে থাকা সাইফ ছিলেন তখন দলের প্রধান ভরসা।

এই দুই উইকেট পতনের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। শামীম হোসেন ৮ বলে ৭ রান করে ব্যর্থ হন। শেষদিকে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে জয় অনেক দূরে। তাঁর ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে।

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শের সময়োচিত বোলিং পরিবর্তন এবং স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, জোয়েল ডেভিস ও অ্যারন রেনশ’র নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে। শেষদিকে নাথান এলিসের স্লোয়ার ডেলিভারির বিপরীতে ব্যাটাররা বারবার বিভ্রান্ত হন।

ওয়ানডে সিরিজ হারার পর এই টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশের জন্য আফসোস রয়ে গেছে—শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের চারজনই ৩০ বা তার বেশি রান করলেও ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব হয়নি।