শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাড়ছে মুহুরী নদীর পানি, আতঙ্কে নদী তীরের মানুষ-

টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলের ঢলের কারণে ফেনীর মুহুরী নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উজান এলাকায় বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে নদীটির পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

বাড়ছে মুহুরী নদীর পানি, আতঙ্কে নদী তীরের মানুষ-

টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলের ঢলের কারণে ফেনীর মুহুরী নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উজান এলাকায় বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে নদীটির পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪৫ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানির স্বাভাবিক বিপৎসীমা হচ্ছে ১২ দশমিক ৫৫ মিটার।

টানা বর্ষণ ও নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তীরবর্তী অববাহিকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়াটা এই অঞ্চলের নিয়মিত নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক বাঁধগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে টেকসই সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মারুফ জানান, প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাস এলেই নদীপাড়ের মানুষের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। নদীর পানির এই হু হু করে বাড়ার দৃশ্য দেখলে স্বাভাবিক থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। পানি এখনও বিপৎসীমা না ছাড়ালেও ভারতের অংশে ভারী বৃষ্টি হলে কী ভয়াবহ রূপ নেবে, সেই আশঙ্কাই তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

একই উপজেলার জগতপুর এলাকার বাসিন্দা নূর নবী বলেন, বিগত দুই বছরের বন্যায় এই অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই এবারও পানি বৃদ্ধির খবর শুনে সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত করাসহ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নতুন স্থায়ী বাঁধ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা গেলে সাধারণ মানুষের এই মানসিক উদ্বেগ অনেকটাই দূর হতো।

ফেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলা জুড়ে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের পানির বাড়া-কমার চিত্রটি কিছুটা ভিন্নধর্মী। গত কয়েক দিন ধরে কিছু সময়ের জন্য পানি বৃদ্ধি পেলেও তা আবার দ্রুত নেমে গেছে। তবে সোমবার সকাল থেকে নদীর পানি বেশ দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। এদিন সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানি যেখানে ৯ দশমিক ৩৫ মিটারে ছিল, বিকেল ৫টায় তা এক লাফে ১১ দশমিক ৪৫ মিটারে পৌঁছায়। পানি যদি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়, তবে বাঁধের নতুন কিছু স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে তাদের পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রয়েছে।