শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট ঘোষণা

ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের উপরিউপরি আক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পটভূমিতে সৌদি আরবের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪টি রাষ্ট্রকে একত্র করে একটি নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক অক্ষ গঠিত হয়েছে

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের উপরিউপরি আক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পটভূমিতে সৌদি আরবের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪টি রাষ্ট্রকে একত্র করে একটি নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক অক্ষ গঠিত হয়েছে।

লোহিত সাগর, সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের মতো বৈশ্বিকভাবে সংবেদনশীল জলপথগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


সৌদি প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয় যে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ শীর্ষক এই যৌথ সামরিক প্ল্যাটফর্মটি মূলত পারস্পরিক নৌ নিরাপত্তা ও মেলবন্ধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুরক্ষামূলক প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহন ও সাধারণ পণ্য সরবরাহের প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত এই বিস্তীর্ণ জলভাগ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক সামরিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের জেরে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলোতে অচল অবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি হুথি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন রুটে আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সামান্যতম অচলাবস্থাও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য লাফিয়ে বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখাই এই জোটের মূল অগ্রাধিকার।

সৌদি রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত উদ্বোধনী সম্মেলনে বিশ্বের ৫১টি রাষ্ট্রকে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশসহ মোট ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিতি জানান। চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মতি প্রদানকারী ১৪টি দেশের তালিকায় স্বাগতিক সৌদি আরব ছাড়াও রয়েছে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরাস। তবে অভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী দুটি আঞ্চলিক শক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। রিয়াদ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জোটটির প্রধান কার্যালয় সৌদিতেই স্থাপিত হবে এবং আগ্রহ প্রকাশকারী অন্যান্য দেশের অন্তর্ভুক্তির পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নবগঠিত এই সামরিক জোটটি পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক ও জলপথ সুরক্ষাকেন্দ্রিক এবং এটি কোনো বিশেষ ভূরাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। এতে অংশ নেওয়া দেশসমূহ নিজেদের মধ্যে কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিয়মিত সমন্বিত নৌ মহড়া পরিচালনার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এতে শরিক হওয়া রাষ্ট্রগুলোর মতে, নৌপথের সুরক্ষা বজায় রাখা একটি যৌথ বৈশ্বিক দায়িত্ব এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঝুঁকি মোকাবেলায় এই গোত্রের বৈশ্বিক মেলবন্ধন অত্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে।