শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

বাংলা লোকসংগীতের এক অনন্য সাধক, প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ও যন্ত্রসংগীতজ্ঞ সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই
সুনীল কর্মকার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা লোকসংগীতের এক অনন্য সাধক, প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ও যন্ত্রসংগীতজ্ঞ সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

শিল্পী সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় বাউলশিল্পী মুক্তা সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন,

“আহা সুনীল কাকা! কণ্ঠ শুনলেই বুঝতেন আমি আসছি। ‘মা’ বলে ডাকতেন। পালাগানের মঞ্চে কত স্মৃতি... ওপারে ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় গুণীশিল্পী।”

পারিবারিক জীবনে সুনীল কর্মকার দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে প্রসেনজিৎ কর্মকার একজন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে বিশ্বজিৎ কর্মকার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত।

বড় ছেলে প্রসেনজিৎ কর্মকার সমকালকে জানান, স্পাইনাল কর্ডের জটিলতা, রক্তে সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন সুনীল কর্মকার। এসব কারণে চার দিন আগে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোর ছয়টায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটায় ময়মনসিংহ নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। পরে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ময়মনসিংহের কলতাপাড়ায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে।

সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার বার্ণাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতাকে পরাজয় হিসেবে না দেখে সংগীতের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তাঁর পিতা প্রয়াত দীনেশ কর্মকার এবং মাতা কমলা কর্মকার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে তিনি তাঁর বাবা ও ছোট ভাইকে হারান।

ভক্ত ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। কিংবদন্তি গীতিকবি জালাল উদ্দিন খাঁর গানের আসরে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পরবর্তীতে তিনি বাউলশিল্পী ইস্রাইল মিয়ার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু ইস্রাইল মিয়া তাঁকে সন্তানের মতো স্নেহ ও সংগীতের তালিম দেন।

শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুনীল কর্মকার ছিলেন একজন বহুমাত্রিক যন্ত্রসংগীত শিল্পীও। একতারা, দোতারা, স্বরাজ ও হারমোনিয়ামের পাশাপাশি খমক, খুঞ্জুরী, ঢোল ও ঢোলক বাজাতে তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। লক্ষ্ণৌ ঘরানার মীর হোসেনের কাছে তিনি বেহালার তালিম নেন এবং প্রতিবেশী গোবিন্দ কর্মকারের কাছে শেখেন তবলা।

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে জানান, জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপের পাশাপাশি সুনীল কর্মকার নিজে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গান রচনা করেছেন। লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক লাভ করেন। দেশের বাইরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি বাংলা লোকগান পরিবেশন করেছেন।