বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্বের প্রতি ৭০ জনের একজন বাস্তুচ্যুত

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৭০ জনে প্রায় ১ জন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে।

বিশ্বের প্রতি ৭০ জনের একজন বাস্তুচ্যুত
গত ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৭০ জনে প্রায় ১ জন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। মূলত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) মানুষের নিজ দেশে ফেরার হার বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মোট বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মধ্যে—

  • ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি)

  • ২ কোটি ৮৫ লাখ শরণার্থী ইউএনএইচসিআরের আওতাভুক্ত

  • ৯০ লাখ আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম সিকার)

  • ৭২ লাখ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ

  • ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী, যারা ইউএনআরডব্লিউএ-এর আওতায় রয়েছে

বিশ্বে শরণার্থী সংকটের উৎস দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশই প্রধান ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট শরণার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ এসেছে মাত্র সাতটি দেশ থেকে। এগুলো হলো—
ভেনেজুয়েলা (৬৪ লাখ), ফিলিস্তিন (৬০ লাখ), ইউক্রেন (৫২ লাখ), সিরিয়া (৪৯ লাখ), আফগানিস্তান (৩৭ লাখ), সুদান (২৮ লাখ) এবং দক্ষিণ সুদান (২৪ লাখ)।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে কলম্বিয়া (২৮ লাখ), জার্মানি (২৭ লাখ), তুরস্ক (২৪ লাখ), উগান্ডা (১৯ লাখ), ইরান (১৭ লাখ), চাদ (১৫ লাখ) এবং পাকিস্তান (১৩ লাখ)। এই দেশগুলোই বিশ্ব শরণার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে আশ্রয় দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন এমন প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেই আশ্রয় নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও পাকিস্তানে অবস্থানরত অধিকাংশ শরণার্থী আফগানিস্তানের নাগরিক, আর তুরস্কে থাকা শরণার্থীদের বড় অংশ সিরীয়।

এছাড়া কলম্বিয়ায় মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে আসা শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে, আর জার্মানিতে ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের উপস্থিতি বেশি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা