প্রায় তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে দলটি বেছে নিয়েছে নিজেদের ঐতিহাসিক পরিচয়কে। সেই উপলক্ষে তারকা ফরোয়ার্ড আলিং হালান্ডসহ জাতীয় দলের ফুটবলাররা অংশ নিয়েছেন ভাইকিং যোদ্ধার আদলে এক ব্যতিক্রমী ফটোসেশনে।
উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভাইকিং ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস অনুযায়ী, ৭৯৩ সালে ইংল্যান্ডের লিন্ডিসফার্ন মঠে হামলার মধ্য দিয়ে ভাইকিং যুগের সূচনা হয় এবং ১০৬৬ সাল পর্যন্ত সেই সময়কাল বিস্তৃত ছিল। ওই সময়ে নরওয়ের সমুদ্রযাত্রীরা তাদের সাহসী অভিযান ও নৌচালনায় দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের বহু শতাব্দী আগেই ভাইকিং অভিযাত্রীরা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সামনে আনতেই বিশেষ এই ফটোশুটের আয়োজন করে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
অসলোর একটি ব্যক্তিগত সৈকতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ডেভিড ইয়ারো। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, সোনালি চুল ও দাড়িতে সজ্জিত নরওয়ের ফুটবলাররা অস্ত্র হাতে একটি ফিয়র্ডের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পেছনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভাইকিং লংশিপ, যা পুরো দৃশ্যকে এক নতুন অভিযানের আবহ দিয়েছে।
ফটোসেশন সম্পর্কে ডেভিড ইয়ারো বলেন, 'আমি চেয়েছিলাম খেলোয়াড়দের ভাইকিংদের মতো দেখাতে। বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার বদলে আমরা এমন কিছু করতে চেয়েছি যা সত্যিই আলাদা।'
এই আয়োজনকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ পোশাক, মেকআপ ও চুলের সাজের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় ঐতিহাসিক আদলে একটি কাঠের জেটি। তবে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে প্রথম দিনের ফটোশুটে অংশ নিতে পারেননি। পরে আলাদাভাবে তার ছবি তুলে চূড়ান্ত কম্পোজিশনে যুক্ত করা হয়।
নরওয়ের সমর্থকরাও সম্প্রতি ‘ভাইকিং রো’ প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। বৈঠা চালানোর সমন্বিত অভিনয় আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিস ক্লাভেনেস বলেন, 'এই ছবির মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি যে, জাতীয় দলটি পুরো নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি শুধু একটি ফটোসেশন নয়, বরং ঐক্য, দলগত চেতনা ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।'
বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রকাশিত এই ব্যতিক্রমী দলীয় ফটোসেশন ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এটি সবচেয়ে স্মরণীয় ও সৃজনশীল দলীয় ফটোসেশনগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।