আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় কমিশনে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানিয়েছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) এবং ইউরোপীয় ভোক্তা সংগঠন ইউরোকনজিউমার্স। সমর্থকদের দাবি, ফিফা সাধারণ দর্শকদের আবেগকে পুঁজি করে টিকিটের বাজারে অন্যায্য দাম নির্ধারণ করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী বিশ্বকাপে একজন দর্শক যদি প্রতিটি রাউন্ডের একটি করে মোট আটটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখতে চান, তবে তাকে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির টিকিটের জন্য গুনতে হবে প্রায় ৫ হাজার ২২৫ পাউন্ড। অথচ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচের জন্য এই খরচের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৪৬৬ পাউন্ড। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চবিত্ত বা প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির দর্শকদের জন্য এই খরচ ১২ হাজার ৩৫০ পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ফিফা লোকদেখানো কিছু সস্তা টিকিট বাজারে ছেড়েছে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ ডলার। তবে এই স্বল্পমূল্যের টিকিটের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় এতটাই নগণ্য যে সাধারণ ভক্তদের পক্ষে তা সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। সমর্থকরা একে ‘প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ইউরোপীয় ভোক্তা অধিকার আইনের পরিপন্থী।
এফএসএ-র পক্ষ থেকে ফিফাকে অবিলম্বে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ বা চাহিদার ভিত্তিতে দাম পরিবর্তনের পদ্ধতি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে টিকিট বিক্রির অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আসন সংখ্যা ও ক্যাটাগরি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। এফএসএ পরিচালক রোনান ইভেন বলেন, ফিফা সমর্থকদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে হয় চড়া দামে টিকিট কিনতে হবে, নতুবা খেলা দেখা বাদ দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে প্রায় ৭০ লাখ টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ফিফা। সংস্থাটি এই বিপুল বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রাকে বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও ফুটবল অনুরাগীরা মনে করছেন, এটি সাধারণ ভক্তদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহারের নামান্তর।