প্রিয় বন্ধুর কবরের মাটি খুঁড়তে গিয়ে সেই কবরের ভেতরেই ঢলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক বন্ধু। সোমবার ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরোয়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) এবং আবুল হাশেম (৮৭) ছিলেন শৈশবের পরম বন্ধু। পেশাগত জীবনে বাচ্চু পাটওয়ারী স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং আবুল হাশেম কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল ছিল যে, এলাকায় কেউ মারা গেলে তারা দুই বন্ধু মিলে সবসময় কবর খনন করতেন। মৃত্যুর আগের রাত রোববারও তারা একসাথে আড্ডা দিয়েছেন এবং সোমবার ভোরে ফজরের নামাজও একই সাথে জামাতে আদায় করেছেন।
নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর বার্ধক্যজনিত কারণে বাচ্চু পাটওয়ারীর চিরবিদায়ের সংবাদ পান আবুল হাশেম। পরম বন্ধুর চলে যাওয়ার খবর শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুরে বন্ধুর শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে নিজেই কবর খুঁড়তে কবরে নামেন তিনি। খনন কাজ প্রায় শেষের দিকে এলে হঠাৎ করেই তিনি কবরের ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত আবুল হাশেমের ছেলে জহির জানান, সকালে প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে তার বাবা অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন। বন্ধুর প্রতি শেষ ভালোবাসা থেকেই তিনি নিজে কবর খনন করতে যান এবং সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী হুমায়ুন পাটওয়ারী জানান, তারা সবাই মিলে কবর খুঁড়ছিলেন, এমন সময় হাশেম চাচা কবরের ভেতরে হেলে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ওপরে তোলা হলেও দেখা যায় তিনি আর বেঁচে নেই। দুই বন্ধুর এমন যুগপৎ প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসী এই ঘটনাকে দীর্ঘ কয়েক দশকের অটুট বন্ধুত্বের এক অবিনশ্বর নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।