টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে এই চরম বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে চীনের আবহাওয়া অধিদপ্তর মঙ্গলবার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে। আবহাওয়াবিদরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বৃষ্টিপাতের এই ধারাটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে চীনের কেন্দ্রীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হুনান ও গুয়াংশি অঞ্চলে চার নম্বর স্তরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি হুবেই, চংকিং এবং গুইঝৌ প্রদেশেও একই ধরনের সতর্কতা বলবৎ রয়েছে। এবারকার অতিবর্ষণ মধ্য হুবেই প্রদেশের অতীতের সমস্ত নজির ভেঙে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশের ৩৩৭টি শহরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গুয়াংশি এলাকায় ১৫ জন যাত্রীসহ একটি পিক-আপ ভ্যান পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নদীতে ভেসে গেলে ছয় জন মারা যান। এছাড়া হুবেই প্রদেশের একটি নিচু গ্রামে হড়পা বান বা আকস্মিক বন্যায় তিন জন এবং দক্ষিণ হুনান প্রদেশে আরও এক জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন চিত্রে দেখা গেছে, হুবেই প্রদেশের জিংঝৌ শহরের রাস্তাঘাট পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা হাঁটু সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং প্লাবিত সড়কে সাঁতরে বেড়ানো মাছ ধরছেন। সেখানকার অসংখ্য যানবাহন পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আকস্মিক এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিপন্ন এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ জোরালোভাবে চলছে। আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা জলীয় বাষ্পের একীভূত মিশ্রণের ফলেই এত বড় অঞ্চলজুড়ে এই নজিরবিহীন বৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী দুই দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে ইয়াংসি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।