বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় তীব্র ও অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন, যার ফলে প্রতিদিন সব বয়সী মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসাপাতালে ছুটছেন।
বিশেষ করে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকের শিকার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
আজ সকালে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে সেখানে ১৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ভর্তি হওয়া এই রোগীদের মধ্যে বড়বাড়িয়া এলাকার মিরাজুল ইসলাম, শান্তিপুরের রেখা বিশ্বাস, আড়ুলিয়ার জোনায়েদ, মাঠিভাঙ্গার সিরাজ শেখ, মান্দ্রার নাঈম হোসেন এবং ভোটেশ্বরের ইলা রানীসহ বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
অন্যদিকে, তীব্র তাপদাহের কারণে অন্তত ১৫ জন স্কুলছাত্রী হিটস্ট্রোকের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। অসুস্থ এই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় জানান, এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। এর ওপর সাম্প্রতিক অতিরিক্ত গরমের কারণে পানিবাহিত রোগব্যাধির পাশাপাশি ডায়রিয়া পরিস্থিতি কিছুটা অবনতির দিকে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডায়রিয়ার পাশাপাশি হামের লক্ষণযুক্ত কিছু রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডায়রিয়া প্রতিরোধী স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র মজুত রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।