জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পাওয়া একটি বিশেষ চিঠির স্মৃতিচারণ করেছেন। ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ নামক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক রুম্মান রশীদ খানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাকে এই শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন।
পূর্ণিমার ভাষ্যমতে, ২০০৩ সালের দিকে তার অভিনীত অত্যন্ত জনপ্রিয় সিনেমা ‘মনের মাঝে তুমি’ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসন সিনেমা হলে সপরিবারে উপভোগ করেন তারেক রহমান। ছবিটি দেখার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি চিঠির মাধ্যমে সিনেমার কুশলীদের অভিনন্দন জানান। অভিনেত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই পত্রে ছবির সকল শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, এমন রুচিশীল সিনেমা নিয়মিত তৈরি হওয়া প্রয়োজন এবং তিনি এই ভালো কাজের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতা সে সময় চলচ্চিত্র জগতের সবাইকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
স্মৃতি হাতড়ে পূর্ণিমা আরও জানান, সেই সময়ে ফেসবুক বা ইন্টারনেটের বর্তমানের মতো ব্যাপকতা ছিল না। ফলে তার মা অত্যন্ত গর্বিত হয়ে পরিচিত সাংবাদিকদের সেই চিঠিটি দেখিয়েছিলেন। পডকাস্টে ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের আরও কিছু অজানা তথ্য বিনিময় করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, রায়হান রাফীর আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দহন’ এবং ‘প্রেশার কুকার’-এ অভিনয়ের অফার পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি ‘দহন’ সিনেমায় কাজ করার জন্য প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোন পরিস্থিতির কারণে ছবিগুলোতে তাকে দেখা যায়নি, সেই নেপথ্য কারণও তিনি এই অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা করেছেন।
এছাড়া নিজের শুরুর দিকের ক্যারিয়ার সম্পর্কে এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে পূর্ণিমা বলেন, তার প্রথম সিনেমা ‘এ জীবন তোমার আমার’-এর জন্য নির্মাতা জাকির হোসেন রাজুর প্রথম পছন্দ তিনি ছিলেন না। অন্য একজন অভিনেত্রী নির্ধারিত থাকলেও তিনি সিনেমাটি ছেড়ে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত পূর্ণিমাকে নায়িকা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল। এভাবেই নানা প্রতিকূলতা ও প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের বর্ণিল যাত্রা শুরু হয়।