মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন
ছবি : সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনে জেলাজুড়ে অন্তত ৭৫ জন মানুষ সাপের কামড়ে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম রবিবার বিকেলে বন্যাদুর্গত এলাকার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের বিষ প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, পানিবন্দি এলাকাগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এই দলগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে দুর্গতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন সরবরাহ করছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে নৌকায় করে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দুর্যোগের কারণে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। চিকিৎসার তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়ির একজন, বান্দরবানের দুজন, কক্সবাজারের ২৪ জন এবং চট্টগ্রামের ১২ জন বাসিন্দা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।