লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে একটি পারিবারিক সালিশি বৈঠকের জেরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম নামের সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গুলি করার অভিযোগে মো. আশিক নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সম্পর্কে তারা পরস্পর দাদা ও নাতি।
এই গ্রেফতার অভিযানের পাশাপাশি অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ছদ্মবেশে থাকা আশিককে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আজ দুপুরে তাকে সাথে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যা পাটওয়ারী বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা। গ্রেফতার হওয়া ২৩ বছর বয়সী আশিক ওই বাড়িরই ইসমাইল হোসেন ফারুকের সন্তান।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আশিকের বাবা ফারুক ও মা আয়েশা বেগমের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে ফারুকের আপন চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশ চলাকালীন একপর্যায়ে আয়েশা বেগমের সাথে উপস্থিত অন্যদের প্রচণ্ড বাদানুবাদ হয়, যা তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করে। পরে তিনি মুঠোফোনে ঢাকায় অবস্থানরত তার ছেলে আশিককে পুরো বিষয়টি জানান। মায়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর আশিক সেই রাতেই ঢাকা থেকে এলাকায় ছুটে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন ৪ জুলাই বিকেলে এই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে পুনরায় বাগবিতণ্ডা শুরু হলে আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধ নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে ওই বৃদ্ধের বাম হাতের কব্জির ওপরের অংশে গুলি লাগে। এই ঘটনার পর থেকেই আশিক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ৬ জুলাই ভুক্তভোগী দাদা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নাতি আশিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলার পর থেকে মূল আসামি আশিক আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আসামিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।