বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চেয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার জেরে এক মুয়াজ্জিনের চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চেয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন
ছবিঃ সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার জেরে এক মুয়াজ্জিনের চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে। উপজেলার ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তে মসজিদের মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দুদিন পর তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম সরকার টানা ১৪ বছর ধরে ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে মসজিদ কমিটি তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

এ বিষয়ে ইব্রাহিম সরকার বলেন, “আমি আগে থেকেই জামায়াতকে সমর্থন করি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে একদিন প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলাম। এই অপরাধে মসজিদ কমিটিতে থাকা কয়েকজন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের চাপে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ছোট চাকরিই ছিল আমার সম্বল। এখন চাকরি হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ভুগছি।”

তবে অভিযোগ নাকচ করে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অরুন বলেন, “মসজিদটি সব দল ও মতের মানুষের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। মসজিদ কোনো নিদিষ্ট ব্যক্তি বা দলের না। কিন্তু মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি প্রকাশ্যে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এতে বিএনপির কিছু লোকজন তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরে আমরা তাকে এ বিষয়টি সর্তক করি৷ কিন্তু তিনি চাকরি ছাড়লেও দল ছাড়তে পারবে না বলে ঘোষণা দেন। পরে সে তার বেতন পাওয়া বুঝে নিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে চলে গেছে।”

মসজিদ কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; তিনি নিজেই অব্যাহতি নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর একটি পথসভায় তিনি মাইকে বক্তব্য দেন, যা নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি সম্পূর্ণ বেতন বুঝে নিয়ে চাবি হস্তান্তর করে চলে যান।

এদিকে ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, “জামায়াতের সমর্থক বা কর্মী হওয়া কোনো অপরাধ না। একজন ভোটার হিসেবে তার একটি দলের প্রতি পছন্দ থাকতেই পারে। মূলত মসজিদ কমিটির লোকজন বিএনপি হওয়ায় তার প্রতি জুলুম করেছে। যে কারণে তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।”